ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান ছাড়া এই অবস্থান থেকে সরে না আসার বিষয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তান এমন কোনো ব্যবস্থার অংশ হবে না যা তাদের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতি বজায় রেখেছে। দেশটির পাসপোর্টেও দীর্ঘকাল ধরে লেখা ছিল যে এটি ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ। পাকিস্তানের বর্তমান নীতি অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং পূর্ব জেরুজালেমকে তার রাজধানী করার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই অবস্থান কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুর সঙ্গে ফিলিস্তিন সংকটের সাদৃশ্য থাকায় এই নীতি পরিবর্তন করা ইসলামাবাদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এছাড়া গাজায় চলমান ইসরায়েলি অভিযানের ফলে পাকিস্তানে জনমত ইসরায়েলের বিপক্ষে আরও কঠোর হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৯১ শতাংশ পাকিস্তানি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও আপাতত ইসরায়েল প্রশ্নে নিজেদের দীর্ঘদিনের ‘রেডলাইন’ বজায় রাখছে পাকিস্তান।
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামাবাদ।



0 মন্তব্যসমূহ