ভারতে খুচরা বিক্রয় বা রিটেইল খাতে এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। মাত্র ১০ মিনিটে ঘরে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ‘কুইক কমার্স’ সেবা এখন দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে টাটা, আইটিসি বা ডাবরের মতো বড় বড় কোম্পানির ডিজিটাল বিক্রির প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মগুলো।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বড় কোম্পানিগুলোর মোট অনলাইন বিক্রির ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশই আসছে কুইক কমার্স থেকে। মাত্র এক বছর আগেও এই হার ছিল অর্ধেকের কম। বিশেষ করে ডাবর ইন্ডিয়া, ব্রিটানিয়া ও টাটা কনজিউমারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রিতে এই পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো।
ভারতে কুইক কমার্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল করোনা মহামারির সময়। লকডাউনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে জরুরি পণ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে ছোট ছোট ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। বর্তমানে ব্লিনকিট, জেপটো ও সুইগি ইনস্টামার্টের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ক্রেতাদের মনস্তত্ত্ব বুঝে তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাচ্ছে। ক্রেতারা এখন দামের চেয়ে সুবিধার দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন, যা কোম্পানিগুলোকে প্রিমিয়াম পণ্য বিক্রিতে সহায়তা করছে।
তবে এই খাতের পথ পুরোপুরি মসৃণ নয়। পাড়ায় পাড়ায় অসংখ্য গুদাম বা ‘ডার্ক স্টোর’ পরিচালনা করতে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া ডেলিভারি কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং পরিবেশদূষণ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে স্থানীয় মুদি দোকানগুলো, যাদের অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জোয়ার স্থায়ী হবে কি না তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।
ভারতে কেনাকাটার ধরন বদলে দিচ্ছে ১০ মিনিটের ডেলিভারি সেবা। বড় বড় কোম্পানিগুলোর অনলাইন বিক্রির প্রধান উৎস এখন কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম। তবে এর ফলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে স্থানীয় মুদি দোকানগুলো।


0 মন্তব্যসমূহ