Recents in Beach

Google Play App

বি.এন.পির রেখে যাওয়া মঙ্গা আঃলীগ জাদুঘরে পাঠিয়েছে- নীলফামারীতে সেতু মন্ত্রী

মোঃ সাদিকউর রহমান শাহ্ (স্কলার): আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক-সেতু-মেট্রোরেল সবাই হলো নৌকার খেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নবার্তা জানিয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি হুঁসিয়ারী উচ্চারন করে বলেন আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেউ দলের সিদ্ধান্ত ব্যতীত প্রার্থী হলেই তাকে বহিষ্কার করা হবে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের নীলফামারী পর্যন্ত ট্রেন যাত্রার পথে সরকারের উন্নয়ন প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে বিভিন্ন রেলস্টেশন পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, এবারও নৌকার বিজয় হবে। এ লক্ষ্যে দলীয় মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনে ব্যর্থ। তারা নয় বছরে নয় মিনিটও আন্দোলন করতে পারেনি। তাই তারা ২০১৪ সালের মতো আবারও সন্ত্রাস-নৈরাজ্য করে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেল দিতে তৎপরতা শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের এই সন্ত্রাস প্রতিরোধ করবে। তিনি বলেন, বিএনপি এখন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তবে বিএনপির সকল ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত ও নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আগামী ডিসেম্বরে বিজয়ের মাসে পরাজিত শক্তিকে আবারও পরাজিত করে বিজয়ী হব। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, জনগণ আর বিএনপি প্রশাসন চায় না। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নে আশ্বস্ত জনগণ। তাই এবারও নৌকার বিজয় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের সঙ্গে কেউ বিরোধিতা করবেন না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাঁরা দলের মনোনীতদের বিরোধিতা করবেন, তাঁদের তাৎণিক দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ আর বিএনপির দুঃশাসনে যেতে চায় না। দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। তাতে জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে মতায় আনবে। বিএনপি-জামায়াতের একমাত্র পুঁজি গুজবসন্ত্রাস। তারা গুজবসন্ত্রাস চালিয়ে আপনাদের বিভ্রান্ত করছে। আপনারা এই গুজবসন্ত্রাস থেকে সতর্ক থাকবেন। এদিকে দীর্ঘ ১৩ ঘন্টা ৫১ মিনিট সময় নিয়ে ঢাকা থেকে নীলফামারী পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারনার ট্রেন যাত্রা শেষ করেছে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে নীলফামারী রেলষ্টেশনে নেমে আসেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুর কাদের সহ প্রতিনিধি দল। তাদের স্বাগত জানান নীলফামারী সদর আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর। এরপর রেলষ্টেশন হতে প্রায় আড়াইশত গাড়ী ও এক হাজার মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা সহ প্রতিনিধি দলকে নিয়ে আসা হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে এখানে অনুষ্ঠিত বিশাল কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুর কাদের বলেন সারা দিনের ট্রেন যাত্রার সার সার সংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন এসেছিলাম ট্রেন যাত্রায় ষ্টেশনে ষ্টেশনে পথ সভা করবো শেখ হাসিনা সরকারে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবো। কিন্তু মঞ্চে উঠে মানুষের মুখেই শুনতে পাই শেখ হাসিনার উন্নয়ন জোয়াবেব ফিরিস্তি। তিনি বলেন প্রতিটি ষ্টেশনে নেমে দেখি পথ সভা পরিনত হয়েছে জনসভা থেকে জনসমুদ্রে। আমি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হয়েও জনসমুদ্র পেয়েছি। আর আমাদের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এলে সেই জনসভা যে জনসমুদ্রে ছেড়ে মহা সমুদ্রে পরিনত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এর মানেই হলো নৌকার জোয়ার আরো চাঙ্গা হয়েছে। এ সময় ওবায়দুল কাদের সভামঞ্চে উঠেই শ্লোগান দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার নির্বাচনের আগেই দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই আজ মানুষের হাতে হাতে মোবাইল, ইন্টারনেট, গ্রামে গ্রামে ডিজিটাল সেবা সেন্টার, উন্নত রাস্তাঘাট। মানুষজন স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছাড়া নারীদের এত বড় সম্মান আর কেউ দেয়নি। আগে শুধু বাবার নাম লেখা হতো। এখন বাবার সঙ্গে মায়ের নামও লেখা হয়। তিনি আরও বলেন, এসব উন্নয়ন দেখে খালেদা জিয়া ও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে। আগামী নির্বাচনে ইনশা আল্লাহ আওয়ামী লীগ আবার জয়লাভ করবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ আর বিএনপির দুঃশাসন দেখতে চায় না। সেতু মন্ত্রী নাম উল্লেখ না করে বিএনপি জামায়াত পন্থী কিছু পত্রিকার সমালোচনা করে বলেন তারা এই সফরের ট্রেনযাত্রাকে বলবে যাত্রীদের মহা দূর্ভোগ। ছড়িয়ে দেবে গুজব। আমরা ট্রেনের সাধারন যাত্রীদের খোজ খবর নিয়েছি ও কথাও বলেছি। তারা সকলেই এক বাক্যে বলেছে আজ আমরা উৎসব যাত্রায় শরীক হতে পেরে মহা আনন্দিত। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন বিএনপি জামায়াত তথা চার দলীয় জোটের রেখে যাওয়া উত্তরাঞ্চলের অভাব অনটন মঙ্গা আজ আর নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ১০ বছরের শাসনে আমুল পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন এর আগে উত্তরাঞ্চলের সড়ক পথে ঘুরেছি। আজ ট্রেনে সফর করলাম। চারিদিকে ফসলের মাঠ সবুজে ছেয়ে গেছে। শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ঘরে ঘরে মোবাইল, রঙ্গীন টেলিভিশন, ফ্যান, ফ্রিজ শোভা পাচ্ছে। মঙ্গা আজ যাদুঘরে চলে গেছে। উত্তরাঞ্চলে এখন কাজ ও খাদ্যের অভাবের কথা শোনা যায়না। ভাতের জন্য শুধু ধান নয় সম্পূরক খাবার যা দরকার তাও ফলাচ্ছে তারা। ফসলের মাঠ বাড়ির আঙ্গিঁনা কোথাও এখন পতিত জমি পাওয়া নেই। উত্তর অঞ্চলে এখন সবজির চাষ ভালই হচ্ছে। এখন উত্তরাঞ্চলের জনপদে কার্তিকে আর অভাবের পদধ্বনি শোনা যায়না। পত্রপত্রিকায় আর মঙ্গা নিয়ে লেখা হয়না। বাসন্তীদের জাল পরা ছবি পত্রিকায় আসেনা। লেখা হয়না কাজের জন্যে ওরা শহরের পানে ছুটছেন। কচুঘেচু খেয়ে বাঁচতে হচ্ছেনা।বহুল জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশে কৃষকরা অনেক বড় এবং নির্ভরযোগ্য ভরসা। তিনি আগামী দুই দিনের মধ্যে জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পৌরসভা,গ্রামে গ্রামে উঠুন বৈঠক ও আওয়ামী ভোট কেন্দ্র সু-রক্ষার জন্য কমিটি গঠনের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। এর কারন উল্লেখ করে ওবায়দুর কাদের বলেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর মতো বিএনপি জামায়াত নাশকতার ছক করেছে। যা ফাঁস হয়েছে। এটিকে প্রতিহত করতে হলে সাধারন জনগনকে সঙ্গে ভোট কেন্দ্র রক্ষা করতে হবে। যাতে সাধারন ভোটাররা নিরাপদে তাদের তাদের ভোট প্রদান করতে পারে। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেছেন, মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, খেলাধুলায় উন্নত হওয়ায় জাতিসংঘ থেকে আমাদের এ দেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির মতো আকাশ থেকে পড়া দল আওয়ামী লীগ নয়। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের শক্তিতে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনা করেছিলেন মরহুম এম. আব্দুর রহিমের মতো মানুষগুলো। তাদের এই চিন্তা চেতনার সুফল ভোগ করছি আমরা। আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে নীলফামারীগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস” ট্রেনে যাত্রা শুরুর পথে ১০টি স্থানে পথসভা করা হয়। এগুলো হলো টাঙ্গাইল, ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার শান্তাহার, জয়পুরহাট, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশন। এসব পথসভায় বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাতজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং ২৬ জন গণমাধ্যম কর্মী ওবায়দুল কাদেরের সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন। সফরের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন- দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি. এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মী সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি দলের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী ১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, নীলফামারী ৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, সাবেক সংসদ সদস্য হামিদা বানু শোভা, হাইকোটের সহকারী এ্যার্টনী জেনালের এ্যাডঃ মনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক সরকার ফারহানা সুমী সহ প্রমুখ। এছাড়াও উক্ত কর্মীসভায় জেলার ছয় উপজেলার সকল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাও,দিনাজপুর হতেও নেতাকর্মীরা এসে যোগ দেয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ সাংবাদিকদের কে জানান, রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নীলফামারী সৈয়দপুর উপজেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেস্ট হাউজের হলরুমে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সহ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য