Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

রাজনৈতিক বিভাজন নিরসন ও টেকসই শান্তিতে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা

রাজনৈতিক বিভাজন নিরসন ও টেকসই শান্তিতে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা

বাংলাদেশের মতো একটি গভীরভাবে বিভক্ত সমাজে রাজনৈতিক ও সামাজিক সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে পুনঃসমঝোতা বা রিকনসিলিয়েশন একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ওয়ারা এক বিশ্লেষণে জানান, এটি প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার বিকল্প নয় বরং পরিপূরক। সিয়েরা লিওন, রুয়ান্ডা বা আর্জেন্টিনার মতো দেশেও বিচার ও সমঝোতা প্রক্রিয়া পাশাপাশি চলেছে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন পেশাজীবীর বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষাপটে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত অপরাধী ও কেবল সুবিধাভোগীদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন কার্যকর হতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মতো দলগুলো কেবল গত সাড়ে ১৫ বছরের হিসাব কষার কথা বললেও দীর্ঘমেয়াদী বিভাজন দূর করতে আরও গভীরে যাওয়া প্রয়োজন। এজন্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড, ৩ ও ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর মতো অমীমাংসিত অধ্যায়গুলো নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। তিউনিসিয়া বা কেনিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সরকারি সেবা খাত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের সরাতে "ভেটিং" বা কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দৃশ্যমান ও গঠনমূলক পরিকল্পনাই বাংলাদেশকে নতুন পথ দেখাতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সংক্ষেপে:
বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভাজন দূর করতে পুনঃসমঝোতা বা রিকনসিলিয়েশন কমিশনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা এখন সময়ের দাবি। টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিচার ও সমঝোতার সমন্বিত উদ্যোগ কীভাবে কার্যকর হতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত।
রাজনৈতিক বিভাজন নিরসন ও টেকসই শান্তিতে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ