ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সরকার গঠনের নেপথ্য ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু হয়েছিল মূলত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে। ১ আগস্ট অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের বাসভবনে এক অনানুষ্ঠানিক সভায় 'দ্রোহযাত্রা'র পরিকল্পনা করা হয়, যা ২ আগস্ট বাস্তবায়িত হয়। ৪ আগস্ট শিক্ষক ও নাগরিক সমাজ একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করে।
অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান জানান, আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহফুজ আলম, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াদের সঙ্গে শিক্ষকদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৬ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করা হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণ এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনা করেই ড. ইউনূসকে বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, ৫ আগস্ট রাতে মাহফুজ আলম ও নাহিদ ইসলামসহ অন্য ছাত্রনেতারা তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। বঙ্গভবনের বৈঠকে শিক্ষার্থীরা ড. ইউনূসের বিষয়ে অনড় অবস্থানে ছিলেন। এছাড়া তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতির পরিবর্তন নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সততা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নেপথ্য কাহিনী জানালেন অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। ড. ইউনূসকে কেন প্রধান উপদেষ্টা করা হলো এবং বঙ্গভবনের সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তার বিশেষ সাক্ষাৎকার।



0 মন্তব্যসমূহ