প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুদ্রকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে অভিহিত করে উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। রবিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আয়োজিত বন্যার্তদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় কল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয়দের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠলে দেশের বেকার সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী লবণ চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে লবণের একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এসময় তিনি এলাকার শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কাউকে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। বক্তব্য শেষে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার সফরে গিয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। উপকূলীয় কর্মসূচি শেষে তিনি ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন। বিকেলে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করেন তিনি। উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান এর আগে বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফর করলেও ফটিকছড়ি, মহেশখালী ও হাটহাজারী অঞ্চলে এটিই তার প্রথম সফর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপকূলীয় এলাকায় শিল্পায়ন ও লবণের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন। বাঁশখালী ও হাটহাজারীতে বন্যার্তদের সহায়তা প্রদানকালে তিনি এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান।



0 মন্তব্যসমূহ