Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

লোহাগাড়ায় ভুয়া ওয়ারিশ সনদে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা: সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

লোহাগাড়ায় ভুয়া ওয়ারিশ সনদে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা: সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার শফিকুর রহমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি ও সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। চট্টগ্রাম জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলার শুনানি শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই আদেশ প্রদান করেন।

পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের মধ্যে চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবু মুছা ও বর্তমান চৌকিদার আব্দুর রহিম রয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন চরম্বা নোয়ারবিলা এলাকার আবুল কাসেম, আবু তাহের, মো. আবু ছিদ্দিক, মো. দেলোয়ার, মো. মামুন, মঈনুদ্দিন, হামিদ আলী, মোহাম্মদ ও জিল্লুর রহমান।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে একটি ওয়ারিশ সনদ তৈরি করেন। পরবর্তীতে ওই সনদের ভিত্তিতে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত মূল্যবান সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের অপচেষ্টা চালান তারা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের নোয়ারবিলা গ্রামের মো. নাছির উদ্দীন বাদী হয়ে এই জাল ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগ ছিল, প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করে জালিয়াতির মাধ্যমে এই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেই ভুয়া কাগজ দিয়ে জমির নামজারি করে তাকে পৈত্রিক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।

আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ মেলায় আদালত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন জানান, জাল ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। আদালতের এই আদেশের ফলে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুগম হলো।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ জানান, আদালতের পরোয়ানার কপি পাওয়ার পর ওয়ারেন্ট অফিসারের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে জালিয়াতির সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জনপ্রতিনিধি ও বর্তমান কর্মচারীর জড়িত থাকার খবরটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই জালিয়াতি চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সংক্ষেপে:
লোহাগাড়ায় ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। জালিয়াতির এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লোহাগাড়ায় ভুয়া ওয়ারিশ সনদে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা: সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ