কওমি মাদ্রাসা স্থাপনের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং হাফেজিয়া মাদ্রাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনে বিএনপি সরকারের নেওয়া উদ্যোগে অংশ নেয়নি সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো। আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশসহ ছয়টি বোর্ডের প্রধানরা সরকারের ডাকা বৈঠকে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মনে করে, তারা সরকারি অনুদান গ্রহণ করে না বিধায় শিক্ষানীতি বা পরিচালনায় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ তারা গ্রহণ করবে না। তবে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের চিত্র জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসায় চুরির অপবাদে ১০ বছরের এক শিশুকে সিলিং ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলিয়ে পেটানোর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কুমিল্লার একটি মাদ্রাসায় পড়া না পারার কারণে শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহীতে কুরআন মুখস্থ করতে না পারায় এক শিশুকে তিন দিন শিকল দিয়ে বেঁধে অভুক্ত রাখা হয় এবং সিলেটে ভাত চুরির অভিযোগে এক শিশুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেঁধে রাখা হয়। শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর মতে, মাদ্রাসা ও হেফজখানাগুলোতে আদব শেখানোর নামে শারীরিক নির্যাতন ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
দরিদ্র অভিভাবকরা মূলত থাকা-খাওয়ার নিশ্চয়তার জন্য সন্তানদের এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠান, যা অনেক সময় নির্যাতনের সুযোগ তৈরি করে দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের ওপর শারীরিক আঘাত বন্ধে এবং একটি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সরকারি তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
কওমি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকারি নীতিমালা ও তদারকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের অমানবিক ঘটনাসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।



0 মন্তব্যসমূহ