দীর্ঘ ছয় মাস ঝুলে থাকার পর অবশেষে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জট খুলেছে। বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংশোধিত এই প্রস্তাবে প্রকল্পটির সঙ্গে তিনটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো বাইপাইল ইন্টারসেকশন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবং নির্মাণাধীন পাতাল মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-১) সাথে সরাসরি সংযোগ। নতুন এই সংযোজন এবং ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের ব্যয় মূল বরাদ্দের চেয়ে ৫৫.১৫ শতাংশ বেড়ে ২৬,৫৮১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সাথে প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি বিমানবন্দরের কাওলা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল হয়ে সাভারের শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হবে। এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাথে উত্তরাঞ্চলের দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। এছাড়া সভায় সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ এবং দিনাজপুর জেলা সমন্বিত উন্নয়নসহ মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এতে ব্যয় ও সময় বাড়ার পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনাল ও মেট্রোরেলের সাথে নতুন সংযোগ।



0 মন্তব্যসমূহ