দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩০ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮০৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। মৃতদের মধ্যে গত এক দিনে সুনামগঞ্জ ও গাইবান্ধার একজন করে শিশু রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে ১৬৬ জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। গত ১৩০ দিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২০৭ জনে। বিভাগীয় পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৬৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ১০৯ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৬ জনসহ অন্যান্য বিভাগেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০৩ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, হাম নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি। তিনি বিশেষ করে দ্বিতীয় ডোজের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ডা. মুশতাক হোসেন আরও জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুরা যথাযথভাবে টিকা পাচ্ছে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শিশুদের জ্বর হলে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ডেঙ্গু ও হাম পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে হামের রোগীর সংখ্যা ছিল বিশ্বে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৩০ দিনে এই রোগে মোট ৮০৫ জন মারা গেছেন। হাম নিয়ন্ত্রণে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


0 মন্তব্যসমূহ