মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত সফর করছেন। এই সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে বর্তমানে গৃহবন্দী থাকা নেত্রী অং সান সু চির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। ভারত সব সময় মিয়ানমারে স্থায়ী শান্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছে।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, মিয়ানমারের মাটি ব্যবহার করে ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতার প্রতি দিল্লির নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মিয়ানমারে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজীব ভাটিয়া এই সফরকে দেশটির জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের স্বীকৃতি পাওয়া মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
সফরের শুরুতে মিন অং হ্লাইং বুদ্ধগয়ায় মহাবোধি মন্দিরে প্রার্থনা করেন এবং পরবর্তীতে মুম্বাইয়ে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও একাকীত্ব কাটিয়ে মিয়ানমার এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাণিজ্য ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে।


0 মন্তব্যসমূহ