বাঁশখালী থানা পুলিশের টার্গেট লিটন সমর্থিত ছাত্রলীগ নেতা কালীপুরের ইকবাল


মো: মনছুর আলম: দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলাধীন কালীপুর এলাকায় আওয়ামিলীগ নেতা আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ কবির লিটন সমর্থিত ছাত্রলীগ নেতা আসিফ ইকবালকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছে বাঁশখালী থানা পুলিশ। গোপন এক জরিপে উঠে আসে বিগত দিনে লিটন সমর্থিত বাঁশখালীর প্রায় অধিকাংশ নেতাকর্মী মিথ্যা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। সারাদেশে প্রশাসন যেখানে সরকার বিরোধীদের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে, সেখানে বাঁশখালী প্রশাসন ঠিক উলটো কাজ করছে লিটন সমর্থকদের হঠানোর পেছনে। গেল রমজানে বাঁশখালী নিউজের সম্পাদক মো: মনছুর আলমকে হত্যার উদ্দেশ্য সোর্স দ্বারা সন্ত্রাসী হামলায় ব্যর্থ হয়ে মিথ্যা মাদক মামলার ঘটনার পরপরই ছাত্রলীগ নেতা আসিফ ইকবালের প্রতি পুলিশের টার্গেট স্পষ্ট হয়ে উঠে। এঘটনার পরদিন কালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা মো: নোমান তার এলাকার লোকজন নিয়ে স্থানীয় এক বিষয়ে রামদাস মুন্সি হাট ফাঁড়িতে গেলেই রাসেদ নামের এক ব্যক্তিকে আসিফ ইকবাল ভেবে ধমক দিয়ে বের করে দেয়ার চেষ্টা চালায় ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো: সোলেইমান। এসময় ইনচার্জ সোলেইমান রাগান্বিত ভাষায় বলেন, এই আসিফ ইকবালের কারণে সাংবাদিক মনছুরকে বেশ কয়েকবার হামলা করতে ব্যর্থ হয়েছি। পরবর্তীতে সাংবাদিক মনছুরের বিরুদ্ধে আরেকটি আইসিটি মামলায় আসিফ ইকবালকেও আসামী করা হয়। এই মিথ্যা আইসিটি মামলা দায়েরের পেছনে বাদীনি জেসমিন আক্তারকে বাঁশখালী থানার ওসি মো: কামাল উদ্দিন ও রামদাস হাট মুন্সি ফাঁড়িতে তৎকালীন দায়িত্বরত এসআই মো: শহীদদ্বয় প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে তথ্য উদঘাটন হলে খোদ থানার ওসিও আসিফ ইকবালের প্রতি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। অথচ ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন রেহেনাকে নিয়ে কটাক্ষ করে প্রকাশ্যে গালিগালাজের একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরও আইসিটি মামলা না দিয়ে স্থানীয় একটা মারামারি মামলায় অজ্ঞাত আসামীর স্থলে চালান দেন বাঁশখালী থানা পুলিশ।

জানা যায়, গত মে মাসে কালীপুর এলাকার রামদাস হাট গরুর বাজারের সামনে কাথারিয়া ইউনিয়নের গরুর ব্যবসায়ী মো: সোহেলের সাথে পূর্ব দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় মো: মিনহাজের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে পুজি করে প্রতিপক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আসিফ ইকবালকে ১ নাম্বার আসামী করে মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে মো: সোহেলকে দিয়ে মামলা দায়ের করান এসআই শহীদ। এমনকি তড়িঘড়ি করি চার্জশিটও দিয়ে দেন তদন্ত কর্মকর্তা সেই এসআই শহীদ। মামলার অপর আসামী মো: আরাফাত, নুরুল আজিম, মো: মিসকাত, মো: মিনহাজ ও মো: বেলাল গণ বলেন, বাদীর সাথে মামলায় উল্লেখিত ঘটনার মত এমন কিছু ঘটেনি। মূলত মো: মিনহাজের সাথে বাদী সোহেলের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মিটমাট করে দিলেও ঘটনার সময় আসিফ ইকবাল ছিল না। ঘটনাস্থলে মিটমিট হয়ে গেলেও পরে যা ঘটেনি তা উল্লেখ করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বাদী সোহেল। এদিকে বাদী সোহেল বলেন কালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাতের লোকজন মামলাটি তাকে দিয়ে করিয়েছে। এরা যাকে ইচ্ছে হয়েছে তাকে আসামী করেছে। আসিফ ইকবাল ঘটনায় না থাকায় থাকে মামলা থেকে রিলিজ দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের হুমকির শিকার হচ্ছে বলে স্পষ্ট হয় বাদী সোহেলের ভিডিও ও অডিও কথোপকথনে। এ বিষয় জানতে চাইলে বাদী সোহেল, প্রতিবেদককে বসে মামলাটি মিমাংসা করার প্রস্তাব করেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা আসিফ ইকবাল বলেন, কালীপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে আমাদের নেতা আব্দুল্লাহ কবির লিটন ভাইয়ের সমর্থিত নোমান ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করেছি। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান শাহাদাত দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নোমান ভাইয়ের প্রতিটি সমর্থক প্রতিপক্ষের হাতে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি হচ্ছে। এপর্যন্ত আমার বিরদ্ধে বেশকয়েকটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। এলাকায় কোন ঘটনা ঘটুক আর না ঘটুক, মামলা হলেই আমাকে মিথ্যাভাবে আসামী করে দেওয়া হয়েছে। নেতা লিটন ভাইয়ের সমর্থনে নোমান ভাইয়ের সাথে থাকায় আমি সহ আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকার ক্ষমতা থাকাকালীনও মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে। সরকার বিরোধীদের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে যেখানে ছাত্রলীগ সবসময় মাঠে থাকছে, সেখানে মাঠে থাকতে না পারি মত আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশের ধাওয়ার মধ্যে রেখেছে। কাথারিয়ার সোহেলের দেয়া মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার সাথে অনেকবার কথা হয়েছে, এসবের রেকর্ডও আছে। সে আমাকে মামলা থেকে রিলিজ দেয়ার কথা বলে আমার প্রতিপক্ষকে দেয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবী করেছে। তার সাথে মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে ঐ মিথ্যা মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে ফাঁড়ি ও থানা পুলিশ একত্রে আমাকে যেভাবে হয়রানি করছে, মনে হয় আমি ফেরারি আসামী। কালীপুরে যেন আমি ছাড়া আর কোন আসামী নেই, শুধু আমাকে নিয়েই পড়ে থাকে পুলিশ। এই মিথ্যা মামলায় আত্মসমর্পণ করলেই আমাকে জেলে যেতে হবে, তাই আমি বাদীর মাধ্যমে রিলিজ নিয়ে মিথ্যা জেল-জুলুম থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। পুলিশের এসআই শহীদ প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য আমাকে মিথ্যা মামলা গুলোতে জড়িয়ে দেন। রামদাস ফাড়ির এএসআই শরিফ হাসান আমাকে ধরতে পারলে অস্ত্র মামলায় চালান দেওয়ারও হুমকি দেয়। হুমকির বিষয়ে আসিফ ইকবালের ছোট ভাই শহীদ জানান, আমি রামদাস হাট থেকে বাজার করে আসার পথে এএসআই শরিফ হাসান হুমকি দিয়ে বলে তোমার ভাই আসিফ ইকবালকে ধরতে পারলে অস্ত্র দিয়ে চালান দেব। 

এ বিষয় সাংবাদিক মো: মনছুর আলম বলেন, আমি দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর যাবত বাঁশখালী নিউজের সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে এবং বাঁশখালী থানার ওসি মো: কামাল উদ্দিনের বরাতে বলতে পারি বাঁশখালী একটি সেনসিটিভ এলাকা। এই উপজেলায় যে কয়েকটি করাপ্টেড ইউনিয়ন রয়েছে তারমধ্য কালীপুর অন্যতম। মাদক, চোরাচালান ও অস্ত্রবাজ ডাকাত-সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য এই এলাকায় মারাত্মক। একটি পক্ষ এসব অপরাধ জিইয়ে রেখে অপরাধীদেরকে ডাল হিসাবে ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপকর্ম। আর এ পক্ষকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে থানার ওসি কামাল ও রামদাস মুন্সি ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ সোলেইমান সমর্থন করে গেলেও প্রকাশ্যে এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন রামদাস মুন্সি ফাঁড়ির তৎকালীন এসআই মো: শহীদ। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ সহ ভুক্তভোগীদেরকে আইনি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার কারণে এসআই শহীদ আমাকে মিথ্যা মামলা দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। অপারগ হয়ে বাঁশখালী থানার ওসি মো: কামাল উদ্দিন ও ইনচার্জ মো: সোলেইমানের সহযোগিতায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার উপরে রমজানে পুলিশের সোর্স দ্বারা সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হত্যাচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে মিথ্যা মাদক মামলার নাটক সাজায়। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন তদন্ত কমিটি গঠন করে মাদক সেবনের কোন সার্টিফিকেট দেননি বলে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এরমধ্যে জেসমিন আক্তার নামের এক নারীকে বাঁশখালী থানার ওসি কামাল উদ্দিন ও এসআই শহীদদ্বয় প্ররোচনা দিয়ে আমি ও আসিফ ইকবাল সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা আইসিটি মামলা দায়ের করান। তাদের প্ররোচনার বিষয়টি বাদী জেসমিন আক্তারের দেয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হয়ে উঠে আসে। এছাড়া বাঁশখালী থানার ওসি মো: কামাল উদ্দিন ভেতরে ভেতরে মূলত নেতা আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ কবির লিটন বিদ্বেষী। লিটন ভাইয়ের সমর্থকদের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক সেটা সহ্য করতে পারেনি। এমনকি লিটন ভাইয়ের পক্ষের লোকজন থানায় গেলে মামলা এন্ট্রি হয় না, আদালতে সাজেস্ট করে। আর প্রতিপক্ষের সত্য-মিথ্যা মামলা দ্রুত থানায় রেকর্ড হয় এবং তড়িঘড়ি করে চার্জশিটও দিয়ে দেন। এটাই হচ্ছে বাস্তবচিত্র, যা নিজে ভুক্তভোগী না হলে অনুধাবন করাটা কষ্টসাধ্য।

কালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা মো: নোমান বলেন, নির্বাচনের পর থেকে আমার পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের কাছে ও প্রশাসনিক ভাবে যথেষ্ট হয়রানির শিকার হয়েছে। আসিফ ইকবালের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা মামলার বিষয়ে বাদী সোহেলের সাথে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছি। পরে তার কথার সাথে কাজের কোন মিল পাওয়া যায় না। এছাড়াও সাংবাদিক মনছুরের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক থাকায়, প্রতিপক্ষরা তা সহ্য করতে পারেনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ