Recents in Beach

Google Play App

বাঁশখালীতে গাছে বেঁধে টানা ৭ ঘন্টা নির্যাতন, মামলা করতে গেলে ঘরে আগুন দেয়ার চেষ্টা (ভিডিও)

মহিউদ্দিন মাহী, বিশেষ প্রতিবেদকঃ
কর্মরত চায়ের দোকানের কর্মচারীকে তুলে নিয়ে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বেদড়ক পিঠিয়েছে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় মারাত্বক আহত হয়ে মৃত্যু শয্যায় কাতরাচ্ছেন চায়ের দোকানের শ্রমিক আব্বাস উদ্দিন। স্বামীকে যখন মারছিলো তখন খবর পেয়ে সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া সন্তান নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন আব্বাস উদ্দিনের স্ত্রী। ওই সময় নবজাতকসহ স্ত্রীকেও ধাক্কা দিয়ে আঘাত করেছে পাষন্ডরা। ঘটনাটি গত সোমবার (১ জনু) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মসুরজ্জা পাড়ায় ঘটে। গুরতর আহত আব্বাস উদ্দিন উপজেলার পূর্ব চাম্বল ইউনিয়নের পেশকার পাড়ার আব্দু রশিদের ছেলে। এই ঘটনার পর আহতের পরিবার থেকে স্থানীয় ভাবে বিচার দিলেও বিচার মানছে হামলাকারী প্রভাবশালী রশিদ আহমদ। পরে এই ঘটনার বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার করার খবর পেয়ে ক্ষমতার জোর দেখিয়ে আব্বাস উদ্দিনের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিতে এসছিলো রশিদ আহমদসহ সন্ত্রসাীরা। বিষয়টি এই প্রতিবেদককে কেঁদে কেঁদে জানালেন আহত আব্বাস উদ্দিনের বড় ভাই আব্দুল মালেক। অসহায় এই পরিবারটি প্রভাবশালীর ভয়ে এই মুহুর্তে থানায় যাওয়ার জন্য সাহস পাচ্ছে না। 

আহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক জানান, তার ছোট ভাই শীলকূপ ইউনিয়নের বড়ুয়া পাড়ার হারুদন রুদ্রের চায়ের দোকানে শ্রমিক হিসিবে কাজ করেন। গত সোমবার সকালে হঠাৎ মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে যায়।

আহতের বড় ভাই বলেন, আমার ভাইকে ওইদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মোবাইল চুরির শিকারোক্তি নেয়ার জন্য দুর্ধর্ষূ ডাকাতকে পেঠাবে না এভাবে গাছে বেঁধে পিঠিয়েছে। মারতে মারতে যখন ক্লান্ত হয়েছিলো তখন পানি চেয়েছিলো আব্বাস উদ্দিন। অথচ পানি পর্যন্ত দেয়নি হামলাকারীরা। 

ঘটনার দিন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি। এই মুহুর্তে আব্বাস উদ্দিনের অবস্থা খুব খারাপ। তার অন্ডকোষ এবং পেট ফুলে গেছে আব্বাস উদ্দিনের। এই মুহুর্তে প্রস্রাব করতে পারছে না। টাকা পর্যনা না থাকায় উন্নত চিকিৎসাও করতে পারছে না। 

গুরতর আহত আব্বাস উদ্দিনের বড় ভাই আবদুল মালেক বলেন, ঘটনার দিন আমার ভাইকে যারা গাছে বেধে মেরেছিলেন তাদের প্রত্যেককে চিনতে পেরেছেন। তারা হলেন, শিলকুল ইউনিয়নের সিকদার বাড়ির মোঃ আজম, রশিদ আহমদ, রুবেল, এরশাদ ও জমির। 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুলের কাছে অবগত করা হলেও তিনি তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাশখালী ওসির কাছে পরিবারের কাউকে যেতে বলেন। ঘটনার বিষয়ে অব্যশই সুষ্টু বিচার পাবেন ভিকটিম। 

বাশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল জানান, আব্বাস উদ্দিনকে হামলার বিষয়ে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। ঘটনার বিষয়ে অবগতও ছিলাম। পরিবারের কেউ অভিযোগ নিয়ে আসলে ঘটনার বিষয়ে খতিয়ে দেখে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য