Recents in Beach

Google Play App

আজ দেশের ক্রান্তিলগ্নে গ্রামডাক্তাররা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়নি।তাদের অবদান অস্বীকার করার মত নয়

মোহাম্মদ এরশাদঃ
"SAVE VILLAGE DOCTOR'S & SAVE GENERAL PEOPLE'S"ডাক্তার! তিনি হলেন মানব সেবক,দূঃসময়ের আপনজন, কারও আবার নতুন জীবন দাতার ত্রাতা।দেশের গর্ব ও অহংকার তারা মানবজীবনকে সুস্ত ও সবল রাখতে ডাক্তাররা সবসময় সজাগ দৃষ্টি রেখে নিজেকে মানবসেবায় নিয়োজিত রাখেন। গ্রাম ডাক্তার,তিনি বিপদের বন্ধু বটে।

সারা বিশ্বজুড়ে চলছে নোভেল করোনা (কভিড-১৯)র আক্রমণ। মহামারী এই ভাইরাস কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ।আমাদের মত জনবহুল দেশে জাতির  ক্রান্তিলগ্নে দেশের সাধারণ জনগণ বিভিন্ন রোগ নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে যায়,তবে অনেক ডিগ্রিধারী ডাক্তাররা ও আজকাল নিজেরা বাঁচতে চেম্বার অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন, এমতাবস্হায় গ্রাম ডাক্তাররা যাবে কই গ্রাম ছেড়ে!গাঁয়ের মানুষ ছেড়ে।তারা গ্রামের মানুষের যে কোন সাধারন চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন সব সময়
এমন একজন গ্রাম ডাক্তার এর কিছু আকুতি।

আমি একজন গ্রাম ডাক্তার;একজন গ্রাম ডাক্তার হিসেবে  আজ আমি গর্বিত। একজন প্রাথমিক চিকিৎসক হিসেবে দেশের ক্রান্তিলগ্নে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ জনসাধারণকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিতে পারি বলে আমি আনন্দিত। আমরা গ্রাম ডাক্তাররা সবসময়  গ্রামবাসীর পাশে থাকি,তারা আমাদের উপরই আস্থা রাখেন।সাধ্যের মধ্যে  থাকলে আমরা চিকিৎসা সেবা না দিয়ে কাউকে ফিরিয়ে দিই না,

একজন অসুস্থ রুগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারি বলে আমি আত্মতুষ্টিতে ভোগী যদিও উপযুক্ত টাকা না পাই। সঠিক সময়ে সেবা দিতে পারি তাই আমি জনগনের প্রথম আস্থা।আমি নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারিনা তাই,চেম্বার বন্ধ ঘোষণা করতে পারিনা।
আমরা গ্রাম ডাক্তাররা এখনো পালিয়ে যাইনি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে।

করোনায় আতংকিত না হয়ে আমরা,সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেবা দিয়ে যাচ্ছি আপন দায়িত্ববোধ থেকে। এভাবেই নিজের অনুভূতি জানালেন বাঁশখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চল শেখেরখীল ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার গ্রাম ডাক্তার আশেক এলাহী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সারাক্ষণ সাধারন মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রায় দেড় যুগের ও বেশী সময় ধরে।

এক পর্যায়ে তিনি বলেন আমার বাবা মরহুম আলহাজ্ব ডাঃ জামাল উদ্দিন মোরশেদ ও একজন গ্রাম ডাক্তার ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৪২ বছরের ও বেশি সময় ধরে এই এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন,তিনি গত ২/১২/২০১৯ ইংরেজী তারিখ মৃত্যুবরণ করেন।অনেকে তার মত এমন আস্থা ভাজন ডাক্তার কে হারিয়ে নিজেদের অসহায় মনে করেন।লোক মুখে শুনা যায়,ডাক্তার জামাল আসলে খুব ভাল মানুষ ছিলেন।
আশেক এলাহী বলেন, ছোট বেলা থেকে দেখেছি সাধারণ মানুষের প্রতি বাবার ভালবাসা কেমন ছিল! কখনো কোন রোগী কত টাকা দিল বা দিলনা আর কতই বা দিল সেটা নিয়ে কোন  মাথা ব্যাথা ছিলনা ওনার। আমি ও ওনার দেখানো পথে চলতে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমরা ও তো মানুষ,আমাদের পরিবার আছে,জীবনের মায়া আছে,কিন্তু আমরা গ্রাম ডাক্তাররা আজ অপারগ,আমরা ও নিরাপদ জীবন চাই,মান সম্মানের সহিত বাচঁতে চাই। সরকার কতৃক স্বীকৃতি চাই।বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই ক্রান্তিলগ্নে হাসপাতাল ছাড়া প্রায় সব জায়গায় এমবিবিএস ডাক্তাররা অনির্দিষ্টকালের জন্যই চেম্বার বন্ধ রেখেছে, আর এসময় করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী ছাড়া অন্য রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই।

ঠিক এই সময়ে ও আমরা গ্রাম ডাক্তাররা নিজেদের চেম্বার নিয়ে রোগীদের সেবা নিয়ে অবিচল আছি।অথচ সরকার কতৃক আমাদের মত গ্রাম ডাক্তারদের জন্য কোন প্রকার দিক নির্দেশনা নেই।আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চায়। এব্যাপারে আমরা গ্রাম ডাক্তাররা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অধিকন্তু এখনো পর্যন্ত দেশের ৭৫% সাধারণ রোগী প্রথমে গ্রাম ডাক্তারদের শরণাপন্ন হয়।তারাই একমাত্র প্রাথমিক ভরসা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য