Recents in Beach

Google Play App

হাটহাজারীতে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী তুহিনের মৃতদেহ উদ্ধার, খুনী গ্রেফতার।



মোহাম্মদ এরশাদঃ গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে নিঁখোজ অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তাছনীম সুলতানা তুহিন (১৩)র মৃতদেহ অবশেষে তিনদিন পর গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বর রবিবার উদ্ধার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। গত ১৬ সেপ্টেম্বর  রবিবার রাত নয়টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার শাহজালাল পাড়াস্থ সালাম ম্যানসনের চতুর্থ তলার একটি ফ্লাট থেকে তার অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তুহিনকে খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে  হাটহাজারী  থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করা হয়।  এরই তদন্ত হিসেবে পুলিশ ঐ ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া ইয়াবা মাদাকাসক্ত শাহনেওয়াজ মুন্না (২২) কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তুহিনকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের বাসার সোফার নিচ থেকে বস্তাবন্দী তুহিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত তুহিন ওই ভবনের নিচ তলায় বসবাসকারী গড়দুয়ারা ইউনিয়নের আবুল হাসেম সারাং বাড়ীর আবু তৈয়বের কন্যা ও হাটহাজারী গালর্স হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।

তুহিন হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মুন্না হাটহাজারী পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের দক্ষিন পাড়ার ডাঃ শাহজাহান সিরাজের ছেলে।

নিহত তুহিনের বড় ভাই মুন্না জানান, তার পিতা-মাতা হজ্ব পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট শিক্ষক তুহিনকে পড়াতে আসেন। এসময় ভবনের নিচ তলা থেকে ২য় তলায় পড়তে যাওয়ার কথা থাকলেও সে যায়নি। পরে অনেক খোঁজাখুজি করে তাকে পাওয়া না যাওয়ায় হাটহাজারী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করা হয়।

নিহতের মামা সাইফুল ইসলাম জানান, তুহিন নিখোঁজের পর থেকে ঘাতক মুন্নার আচরন সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুক্রবার রাতে মুন্নার বাবা মা বাসায় না থাকায় তার প্রতি সন্দেহ আরো বাড়তে থাকে। পরদিন মুন্নার বাবা মাকেও গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। পুলিশও মুন্নাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

আজ রবিবার সন্ধ্যায় হাটহাজারী থানা পুলিশের পুনঃ পুনঃ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মুন্না পুলিশের নিকট তুহিনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করে।
এই ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জনাব মোঃ বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে মৃতদেহ উদ্ধার করেছি এবং আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি সবাইকে ধৈর্য্যধারণ ধরতে অনুরুধ করেন এবং বলেন আসামী যেন সর্বোচ্চ কঠিন শাস্তি পায় সে ব্যবস্থা তারা করবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য