সব বাঁধা উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে যান: ফখরুল

বিএন ডেস্কঃ
রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। রাজশাহীতে সদ্য সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও বরিশাল সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। সেইসাথে আগামীকাল গাজীপুর সিটিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
বরিশাল সিটিতে সাবেক মেয়র আহসান হাবীব কামালের জায়গায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিল বিএনপি। রোববার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দুই সিটির জন্য দলের চূড়ান্ত মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে সিলেটের মেয়র প্রার্থীর নাম কাল সোমবার ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সোমবার সিলেটের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন তারা। সিলেটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলীয় জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ছাড় দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তা উড়িয়ে দেন তিনি। সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবারো মেয়র প্রার্থী হতে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
ভোটকেন্দ্রে যান: সকল বাঁধা উপেক্ষা করে মঙ্গলবার সকাল বেলাই গাজীপুরের ভোটারদে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহবান জানিয়ে বলেন, গাজীপুরের ভোটাররা ভোট দিতে চান এবং তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। আমি আপনাদের মাধ্যমে গাজীপুরবাসীকে আহবান জানাতে চাই যে, আপনাদের যে অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রয়োগ করুন। সমস্ত বাঁধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আপনারা ভোট কেন্দ্রে যান, ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই যান এবং গিয়ে আপনাদের ভোটের অধিকারকে প্রয়োগ করুন।
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান রেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা ২৬ তারিখে গাজীপুরের যে নির্বাচন, সেই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, আমাদের সন্মানিত ভোটার ও নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তার সকল ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবেন। অন্যথায় নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ করা উচিৎ। গাজীপুর নির্বাচনের সঠিক সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহবানও জানান তিনি।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার লক্ষাধিক ভোটে বিজয়ী হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি মহসচিব বলেন, গাজীপুরের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা শতকরা একশ ভাগ আশাবাদী। শতকরা একশভাগ আশাবাদী লক্ষাধিক ভোটে আমরা জয়লাভ করবো। তবে এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর পরবর্তি তিনটি সিটি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছি, গাজীপুর সিটি নির্বাচন ইসির জন্য টেস্ট কেইস। আমরা এই নির্বাচনটি দেখে নিসন্দেহে আমরা বক্তব্য রাখবো।
ওবায়দুল কাদের প্রসঙ্গ: নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপির সাথে প্রেম নয় –ওবাদুল কাদেরের এরকম প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি জানি যে, উনি ভালো কবিতা লেখতেন একসময়, তার বেশকিছু কবিতা বেরিয়েছিলো। আমরা জানি যে, ভালো কবিতা তারাই লেখেন যারা প্রেম করেন। প্রেমবিহীন কবিতা হয় না। প্রেম না হলে কিন্তু কবিতা-গল্প-সংস্কৃতি আসে না। প্রেম না হলে তো রাজনীতিও করা যাবে না। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দেশের প্রতি ভালোবাসা সেটাও করা যাবে না। সুতরাং প্রেম তো করতেই পারে এবং ওবায়দুল কাদের সাহেবকেও প্রেম করতে হবে জনগণের সঙ্গে। কারণ এই দেশটাতো সকলের, কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। অবশ্যই জনগণের যে আশা-আকাংখার তাকে করবার জন্য তাদের সে কথাগুলোর উত্তর দিতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গাজীপুরে সবগুলো কেন্দ্রে আমরা এজেন্ট নির্ধারিত হয়েছে একজন নয়, তিন-চার জন করে। এখন তারা থাকতে পারবে কিনা এটা তো নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার ওপরে। সরকারি দল জরবদস্তিতে সবাইকে বের করে দেবে কিনা তার ওপরে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গাজীপুরের আমি গতকাল (শনিবার) গিয়েছিলাম। আমি যেটা প্রত্যক্ষ করেছি যে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আসলে নেতা-কর্মীরা নির্বাচনটা পরিচালনা করছে না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এটা পরিচালনা করছেন ওখানকার এসপি। তার অধীনে যে পুলিশ ফোর্স, ডিবি আছে তারা এটা পরিচালনা করছে। গতকাল যখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী পুলিশের গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তখন ওখানকার এসপির দায়িত্বটা কী ছিলো? নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কী ছিলো। কেউ কি এসপিকে জিজ্ঞাসা করেছেন যে, আপনার পুলিশের গাড়িতে করে সরকারি দলের প্রার্থী ঘুরে বেড়াচ্ছেন? তাহলে কী বলার আছে। পুরো নির্বাচনটা পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুলিশ বিভাগ, এসবি-ডিবি এরা করছে। মনে হচ্ছে প্রার্থী আওয়ামী লীগের নন, এসপি নিজেই প্রার্থী। এরকম একটা ভাবসাব দেখা গেছে। ভোটারদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশ।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপেদষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কাইয়ুম, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ঠিক করতে রোববার ঢাকার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকে বসে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তথা মনোনয়ন বোর্ড। এরপর সাংবাদিকদের সামনে এসে বরিশাল ও রাজশাহীতে দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড তিন সিটিতে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বুলবুল, সরোয়ারসহ ১৭ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। বরিশালে এবারও প্রার্থী হতে সাক্ষাৎকার দেন বর্তমান মেয়র আহসান হাবীব কামালও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ