কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে শিল্পায়নের পাশাপাশি এবার একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নতুন শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। মূলত বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ওপর থেকে আবাসন, যানজট এবং জনঘনত্বের চাপ কমিয়ে আনাই এই মেগা প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫–২০৫০-এর আওতায় ‘আনোয়ারা অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান’-এর মাধ্যমে ‘এক নগর দুই শহর’ বা ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
সিডিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আনোয়ারার চাতরী, বৈরাগ ও বারখাইন ইউনিয়ন এবং কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান এলাকার প্রায় ৭ হাজার ৩১৫ দশমিক ৫ একর জমিতে এই নতুন শহর গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বসবাস করলেও ২০৫০ সাল নাগাদ তা ৭ লাখ ২৪ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। চাইনিজ ইকোনমিক জোন, কোরিয়ান ইপিজেড এবং কাফকোর মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির কারণে এটি পেশাজীবীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের গন্তব্য হয়ে উঠবে।
পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় এই প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিডিএ জানিয়েছে, মোট কৃষিজমির একটি বড় অংশ অস্পর্শনীয় রেখে কেবল ৩৯ শতাংশ জমিতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। কোনো বহুফসলি জমির ক্ষতি না করে টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ৪৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নেটওয়ার্ক, ট্রাক ও বাস টার্মিনাল এবং ভবিষ্যতে কমিউটার রেলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পার্ক এবং খেলার মাঠের মতো সব ধরনের নাগরিক সুবিধার সংস্থান রাখা হয়েছে এই মাস্টারপ্ল্যানে।
সিডিএর উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী জানান, কর্ণফুলীর দক্ষিণ অংশে নগরায়ণের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের স্বার্থ রক্ষা ও উর্বর কৃষিজমি অক্ষত রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি মডেল টাউন গড়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। বর্তমানে স্টেকহোল্ডারদের মতামত ও গণশুনানি চলছে এবং সব ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।
চট্টগ্রামের জনচাপ কমাতে কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে আধুনিক স্যাটেলাইট টাউন গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সিডিএ। ২০৫০ সাল নাগাদ ৭ লক্ষাধিক মানুষের আবাসস্থল হবে এই পরিকল্পিত নতুন শহর।



0 মন্তব্যসমূহ