Recents in Beach

Google Play App

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলক‚প ইউনিয়নের পশ্চিম মনকিচর গ্রামে নৃশংস ভাবে হত্যার শিকার ৫ সন্তানের জননী গৃহবধু সাজমা খাতুন (৩৩) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীকে মামলা তুলে নিতে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাদীর পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তায় ভুগছে। তাছাড়া মামলা দায়েরের এক মাস ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার সকল আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্য ঘুরাফেরা করায় আতংকের মধ্যে রয়েছে নিহতের পরিবার। এ বিষয়ে নিহত গৃহবধুর পরিবারের পক্ষ থেকে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করা হয়েছে। এদিকে রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাঁশখালী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আসামি গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত থাকার দাবি করলেও আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানা পুলিশের ওসি গৃহবধু হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
¯’ানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম গন্ডামারা গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের নজির আহমদের কন্যা সাজমা খাতুন (৩৩) এর সহিত ২০০৪ সালে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন শীলক‚প পশ্চিম মনকিচর গ্রামের মোঃ ইসমাইলের পুত্র মোস্তাক আহমদের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পরবর্তী তাদের সংসারে ১০ মাসের শিশু কন্যাসহ ৫ সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তবে বিবাহের দীর্ঘ সময় ধরে সংসারে সুখে শান্তিতে একই সাথে বসবাস করলেও ২০১৯ সালের দিকে এসে যৌতুক দাবীর কারণে দেখা দেয় পারিবারিক কলহ। সেই কলহের জের ধরে স্বামী মোস্তাক আহমদের ছলচাতুরীতে কৌশল অবলম্বন করে তার পরিবারের সদস্যরা চলতি বছরের ১ আগষ্ট বেদম মারধর করে নিহত গৃহবধুকে। মারধরের এক পর্যায়ে গৃহবধু অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে নৃশংস হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেওয়ার পায়তারা করে হত্যাকারীরা। হত্যার পর ঘটনা¯’ল হতে পুলিশ গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছিলেন। এদিকে এ ঘটনায় নিহত গৃহবধুর পিতা বাদী হয়ে শ্বশুর বাড়ীর ৬ জনকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় মামলা (নং- ১/২৫৩) দায়ের করেছিল। মামলার এক মাস ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত একজন আসামীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। সেই সুবাদে আসামিরা নিহত গৃহবধুর পিতা ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দীপক কুমার সিংহ বলেন, থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর উক্ত মামলা আমাকে তদন্তের জন্য দায়িত্বভার প্রদান করা হয়। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। তবে আসামিদের এলাকায় প্রকাশ্য ঘুরাফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য