বাঁশখালীত লবণ উৎপাদনের ধুম কম দামে হতাশ

বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বর্তমান লবণ উৎপাদনের ধুম চললেও লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক শ্রমের মাধ্যমে লবণ উৎপাদন করেও হতাশায় ভুগছে চাষিরা। বিগত দিনের মত এবার লবণে চড়া দাম পাবে সে আশায় বেশি দামে জমি লিজ নেয় লবণ চাষিরা। কিন্তু বর্তমানে লবণের মূল্য প্রতি মণে ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দামে বেচা-বিক্রি হলেও তাতে চাষিরা পাচ্ছে ২ শত টাকার চেয়েও কম। আবার লবণ বিক্রির সময় প্রতি মণ লবণে ৪৮ কেজি থেকে ৫০ কেজি লবণ নিয়ে নেয় ক্রেতারা। ফলে চরম হতাশার মাঝে লবণ মাঠে সময় দিচ্ছে লবণ চাষিরা।
বাঁশখালীর সবচেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে ছনুয়া ও গন্ডামারায়। সম্প্রতি এসব এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ স্থানে লবণের মজুদ। বাঁশখালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় বাঁশখালীতে এবার দেড় হাজার হেক্টর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে দেশের কক্সবাজার এবং খুলনার পর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতেই প্রচুর পরিমাণে লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। বাঁশখালীতে পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বলের ডিপুটিঘোনা, শীলকূপের পশ্চিম মনকিচর, সরল, মিনজিরতলা, কাথরিয়া, খানখানাবাদ (আংশিক) এলাকায় লবণের ব্যাপক উৎপাদন হয়ে থাকে।
বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকার লবণ চাষি আবুল খাইর, জাকের হোসেন, আমান উল্লাহ, নুরুন্নবী সওদাগরসহ বেশ কয়েকজন লবণ চাষি জানান, প্রথমত তারা লবণের মূল্যে বেশি পাবে এ আশায় চড়া দামে জমি লিজ (লাগিয়ত) নিয়েছে। ৬ মাসের জন্য প্রতি কানি জমি তারা ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচে লাগিয়ত নেয়। তার সাথে পলিথিন, পানি সেচ, মজুরি সব মিলে ৬০/৭০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে প্রতি কানি জমিতে। কিন্তু বর্তমানে তিন সময় শেষ হলে তারা সেসব জমি থেকে ৮০/৯০ মণ লবণ পেয়েছে। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২২০ মন থেকে ২৫০ মণ লবণ পাওয়া যাবে ফলে আমাদের বর্তমান খরচ তোলাও অনেক কষ্টকর হচ্ছে বলে তারা জানান।
জানা যায়, বাঁশখালীতে লবণ চাষিদের দীর্ঘদিনের একটা প্রত্যাশা ছিল লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ একটা মেশিন স্থাপনের। কিন্তু নানা কারণে তা হয়ে উঠছে না। অথচ প্রায় ২৫ হাজার লোক এ কাজের সাথে জড়িত।
লবণ চাষিদের ব্যাপারে ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদ বলেন, আমার এলাকাতে কয়েক হাজার লবণ চাষি রাত দিন পরিশ্রম করে লবণ উৎপাদন করলেও তারা নানা কারনে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। মধ্যস্বত্ত ভোগীরা নানা ভাবে ঠকিয়ে লবণ কিনে যাচ্ছে কম দামে। তিনি লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাঁশখালীতে এ বছর প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে লবণ উৎপাদন হচ্ছে । চাষিরা নানাভাবে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলছে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী সম্প্রতি এক সমাবেশে লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।
/আজাদী! 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ