মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত সফর শেষে দাবি করেছেন যে, আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষিপণ্যসহ প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের আমেরিকান পণ্য কিনতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। রুবিওর এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই প্রতিশ্রুতিকে রহস্যজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমন একতরফা চুক্তিতে ভারতের লাভ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির সময় এই বিশাল অঙ্কের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিনিময়ে ভারত তথ্যপ্রযুক্তি, কয়লা ও উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। তবে পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসনের শুল্কনীতিতে পরিবর্তন আসায় পরিস্থিতি বদলে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা ভারতের জন্য অবাস্তব ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মার্কিন সরবরাহকারীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়ে দিতে পারে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ ধর জানান, প্রতি বছর এত বিপুল পরিমাণ আমদানি ভারতের বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও দাবি করেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে 'ইন্ডিয়া ফার্স্ট' নীতির ওপর জোর দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৫ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এমন দাবিতে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ