Recents in Beach

Google Play App

মুক্তিযোদ্ধা জননী সাহসিকা রমা দি, এখন আর নেই। বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর শোক


গাজী গোফরানঃ
চলে গেলেন ‘একাত্তরের জননী’ গ্রন্থের লেখিকা, মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী। তার জীবনকে নিয়ে নির্মিত হওয়া দরকার একটি চলচ্চিত্র। তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রী। ১৯৭১ সালের ৫ মে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে ধর্ষণ করে তার বাড়ি গানপাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার পর পোড়া ভিটায় কোনোমতে পলিথিন বা খড়কুটো নিয়ে মাথায় আচ্ছাদন দিয়ে কাটিয়েছেন কিছুদিন। তার তিন সন্তান সাগর, টগর, টুনু ঘটনাক্রমে একে একে তার জীবদ্দশায় মারা যায়। বাংলাদেশ স্বাধীনের আগের রাতে ১৫ ডিসেম্বর থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার সন্তান সাগরের, ২০ ডিসেম্বর রাতে মারা যায় সাগর। ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রমা চৌধুরী নিজের ছেলে টগরকে ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে অসাবধানতাবশত তার শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায় টগর। টুনু ১৯৯৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। স্বাধীনতার পরে ২০ বছর তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। প্রথমে তিনি একটি পাক্ষিক পত্রিকায় লিখে বিনিময়ে পেতেন পত্রিকাটির ৫০টি কপি। সে পত্রিকা বিক্রি করে চলত তার জীবন, পরে নিজেই নিজের লেখা বই প্রকাশ করে বই ফেরি করে বিক্রি করা শুরু করেন। প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কবিতা মিলিয়ে বর্তমানে তিনি নিজের ১৮টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শবদেহ পোড়ানোতে বিশ্বাস করেন না রমা চৌধুরী। তাই তিন সন্তানকেই দেয়া হয়েছে মাটিচাপা। মুক্তিযুদ্ধের পর টানা চার বছর জুতো পড়েননি রমা চৌধুরী। এরপর নিকটজনের পীড়াপীড়িতে অনিয়মিতভাবে জুতো পড়া শুরু করলেও তৃতীয় সন্তান টুনু মারা যাবার পর আবার ছেড়ে দেন জুতো পায়ে দেয়া। এরপর গত ১৫ বছর ধরে জুতো ছাড়াই পথ চলেছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ আজ ভোর রাতে এ মানুষটি পাড়ি জমালেন চিরপ্রস্থানের পথে। স্বর্ণসময়ের মানুষগুলো চলে যাচ্ছেন একে একে, এ শূন্যতা পূরণ হবে না। এ রত্ন-মানুষদের জন্ম সবকালে হয় না। গভীর শ্রদ্ধা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য